দক্ষিনদিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে তীব্র রক্ত সঙ্কট

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার সাথে সাথে শুরু হয়েছে নির্বাচন আচরণবিধি। ফলে কোনও রাজনৈতিক দল রক্তদান শিবির না করতে পারায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র রক্ত সঙ্কট। বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের প্রায় সব গ্রুপের মজুত রক্ত তলানিতে এসে ঠেকেছে। রোগীর আত্মীয়রা রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে হাসপাতাল চত্বরে। এদিকে রক্ত সঙ্কট দূর করতে এগিয়ে আসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রেস ক্লাব। ক্যানসার আক্রান্ত এক রোগীকে প্রেস ক্লাবের দুই সাংবাদিক রক্ত দেন। ভোটের জন্য বন্ধ রয়েছে রক্তদান শিবির। এছাড়া পরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রক্তদান শিবির করেনি কোনও সংগঠন। যার জন্য জেলা জুড়ে রক্ত সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গেছে। 

        হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সব থেকে বেশী সমস্যায় পড়েছে থ্যালাসেমিয়া ও ক্যানসার রোগীরা। শুধু মাত্র বালুরঘাট হাসপাতালে প্রতি দিন গড়ে ২০-২৫ প্যাকেট রক্ত লাগে। এদিন বালুরঘাট ব্লাড ব্যাঙ্কে 'এ' পসেটিভ ৪, 'বি' পসেটিভ ৯, 'এবি' পসেটিভ ২, 'ও' নেগেটিভ ১ এবং 'ও' পসেটিভ ১ প্যাকেট রক্ত মজুত রয়েছে। এছাড়াও 'এ' নেগেটিভ, 'বি' নেগেটিভ , 'এবি' নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত নেই। পাশাপাশি গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে দিনে ৮-১০ প্যাকেট রক্তের প্রয়োজন হয়। পরীক্ষা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য রক্তদান শিবির না হওয়ায় এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রক্ত সঙ্কট মেটাতে এবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রেস ক্লাব এগিয়ে এসেছে। 

        এবিষয়ে হাসপাতালের রোগীর আত্মীয় দেবাশিস সরকার জানান, এদিন দুজন রোগীকে রক্ত দিয়ে সাহায্য করেছে দুই রক্তদাতা। তার দাবী, বিভিন্ন সংগঠন রক্তদান শিবির করে অবিলম্বে এই রক্ত সংকট দূর করুক। 

        এবিষয়ে রক্তদাতা তথা সাংবাদিক মুন্না আগোওয়াল জানান, রক্ত সঙ্কট মেটাতে তারা মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করার লক্ষে রক্তদান করেছেন। এদিন প্রেস ক্লাবের দুই সাংবাদিক ক্যানসার রোগীকে রক্তদান করেন। আগামী দিনেও রক্ত সংকট মেটাতে প্রেস ক্লাব পাশে থাকবে বলে তিনি জানান। 

        এই রক্ত সংকট নিয়ে হাস্পাতালের এক চিকিৎসক অমিত দে জানান, রুগীদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তবেই তারা রক্ত দিচ্ছেন। কিন্তু এবিষয়ে রুগীর পরিবারের লোকেদেরও এদিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।